Friday, December 27, 2019

কারওয়ান নদ থেকে কারওয়ান বাজার

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪ বছরে ৫০০ বাংলাদেশী নিহত

আশঙ্কাজনক হারে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের ওপর হামলা, লুটপাট ও খুনের ঘটনা। গত চার বছরে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি অভিবাসী নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্বেগ তুলে ধরে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে এনিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। খবর বিবিসির। 
                 VIDEO:www.youtube.com/onindo0077
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থেকে ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন তামান্না আক্তারের স্বামী। এটি তামান্নার ছদ্মনাম। দক্ষিণ আফ্রিকা যাবার দেড় বছরের মধ্যে তার স্বামী সেখানে কাজের অনুমতি অর্থাৎ ওয়ার্ক পারমিট পান। এরপরে জোহানসবার্গে তিনি একটি মুদি দোকান খোলেন। বছর খানেকের মধ্যে দাঁড়িয়ে যায় তার ব্যবসা। টাকা পয়সা জমিয়ে ২০১৫ সালে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। বিমানের টিকেট কেনাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের কয়েকদিন আগে নিজের দোকানের সামনে খুন হন তিনি। তামান্না বলেন, এ ঘটনায় ওইখানে কোনো আটক-গ্রেপ্তার-বিচার কিছু হয়েছে কি না আমরা জানি না। শুধু এইটুকু জানি, ওইখানে কোন মামলা হয়নি। তাকে দেশে এনে মাটি দেয়া হয়, এখানেও কোন মামলা হয়নি। আমার সাথে ২০১২ সালে তার বিয়ে হয়, ফোনেই কবুল পড়ানো হয়। তিনি মারা যাওয়ার পর ওই দেশ থেকে তার টাকাপয়সা কিছু আসেনি। আর এইখানে তো কিছু ছিলোই না তেমন, ফলে আমরা খুব অসুবিধায় পড়ে যাই। চার বছরের বেশি সময় পার হবার পর তামান্না সম্প্রতি অন্যত্র বিয়ে করেছেন।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ফেরদৌসির বড় ভাই কোন রকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ২০১৩ সালে যান দক্ষিণ আফ্রিকা। ফেরদৌসি বলেন, তিন বছর বিভিন্ন জায়গায় কাজ করার পর ২০১৬ সালে ভাইয়া অ্যাসাইলাম পেপার হাতে পায়। এরপর একটা দোকান করার জন্য পরিচিত একজনের কাছ থেকে দশ হাজার রেন্ড (দক্ষিণ আফ্রিকান মুদ্রা) ধার করছিল ভাইয়া। আমরা পরে শুনছি যেদিন বাসায় টাকা নিয়া আসে ওই রাতেই খুন হয় আমার ভাই। ফেরদৌসি জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের লাশ প্রায় এক মাস পর দেশে পৌঁছেছিল। সেখানে কোন মামলা হয়নি। আমাদের বলছে, আমার ভাইয়ের কাগজপত্র নাই, সেজন্য এ ঘটনায় ওই দেশে মামলা হয়নি। এমনকি লাশ দেশে আনার খরচও আমরা এখান থেকে পাঠাইছি। সন্তান হারানোর শোক এই পরিবারটি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পরিবারের হাল ধরার জন্য প্রায় দশ লাখ টাকা ধার করে ছেলেকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।

কেন এসব হত্যাকাণ্ড?

প্রিটোরিয়াতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে জানানো হয়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট ৪৫২জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে ২০১৯ সালের প্রথম নয় মাসে ইতিমধ্যে ৮৮জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাব্বির আহমেদ চৌধুরী বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, নিহতদের শতকরা ৯৫ শতাংশই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে বেশিরভাগই ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত ও নারীঘটিত শত্রুতার কারণে নিহত হয়েছেন বলে হাইকমিশন জানতে পেরেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান ফারুক জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন দোকানপাটে হামলা এবং লুটতরাজ প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেপটাউন, জোহানসবার্গ, প্রিটোরিয়া এবং ব্লুমফন্টেইনে অভিবাসী বিরোধী হামলার শিকার হয়েছেন বহু বাংলাদেশি।

বাংলাদেশ থেকে বৈধ এবং অবৈধভাবে যারা আসেন, নানাভাবে কিছুদিন পর তারা এখানে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেন, বিশেষ করে মুদি বা গ্রোসারি দোকান দেয় তারা। তখন দেখা যায় বাংলাদেশি আরেকজন অভিবাসীর সঙ্গেই হয়ত তার দ্বন্দ্ব শুরু হলো। এর পরিণতিতে অনেক খুনখারাপি আমরা দেখেছি। এছাড়া কাগজপত্র বিশেষ চেক করা হয় না বলে অনেকে চলে যায় গ্রামের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এ থেকে দোকানে লুট ও সংঘর্ষ এবং খুনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ আছে।

ফারুক জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, দেশটিতে বহু বাংলাদেশি অবৈধভাবে অবস্থান ও কাজ করছেন, যে কারণে অনেক সময় হত্যাকাণ্ডের পর মামলা করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। তিনি জানিয়েছেন, হামলা, লুট এবং হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করে অভিবাসী বাংলাদেশিরা নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘ শরণার্থী হাইকমিশনের কার্যালয়ের সামনে নভেম্বর মাসে বিক্ষোভও করেছে।

বেসরকারি হিসাবে অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মরত বাংলাদেশি কম্যুনিটির হিসাব অনুযায়ী দেশটির বিভিন্ন শহরে এই মূহুর্তে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। এদের বেশিরভাগ কেপটাউন, জোহানসবার্গ এবং ব্লুমফন্টেইনে থাকেন। মূল শহরের আশেপাশে এবং গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে কাজ করেন অনেকে।

১৯৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমানো নোয়াখালীর তাবারক হোসেন গত বছর কেপটাউনে ছোট একটি রেস্তরাঁ দিয়েছেন। তিনি বলছিলেন, এখানে প্রতিযোগিতা অনেক, টিকে থাকা সহজ না। এছাড়া স্থানীয় লোকের আর্থিক অবস্থা গত কয়েক বছর ধরে ভালো না হওয়ায় আমাদের ব্যবসার অবস্থাও ভালো না। এছাড়া প্রায়ই স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমাদের দোকানে লুটপাট চালায়, কখনো ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ নেয়। নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময়ই রাত জেগে দোকান পাহারা দেন তারা।
কেপটাউনেই স্বামীর সঙ্গে ছোট একটি সুপারস্টোর চালান সীমা আক্তার। তিনি বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে প্রতিদিন অনিশ্চয়তায় থাকেন। কখন হামলা হবে বা বাচ্চারা যাতে খারাপ কিছুর মুখে না পড়ে, তা নিয়ে সারাক্ষণ টেনশনে থাকি।

কী করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা উইং এর মহাপরিচালক মালেকা পারভিন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্বেগ তুলে ধরে কয়েক দফা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে এনিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে যে ওই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর তো আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, ফলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থামাতে আমরা নিজেরা সরাসরি কিছু করতে পারছি না। তিনি বলেন, ওদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হবার কারণে কেবল বাংলাদেশি নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার আশপাশের দেশগুলো থেকে যারা ওখানে এসে ব্যবসা বাণিজ্য করছে সবাই হামলার শিকার হচ্ছে। পারভিনের মতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, ওখানে অনেক অবৈধ বাংলাদেশি কাজ করছেন, যে কারণে হামলা বা হুমকির শিকার হলে অনেকেই দূতাবাস বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতে যায় না। ফলে ঠিক কী পরিমাণ মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছেন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া কঠিন।

তবে, অভিবাসী বিরোধী হামলার প্রেক্ষাপটে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের চলাচলে সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। 

Tuesday, August 27, 2019

নারী কেলেঙ্কারির ঘটনার পর ডিসিদের খাসকামরা থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে

ঔপনিবেশিক আমলের খাসকামরা প্রথা এখনো চালু থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জান বলছেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এসব খাস কামরার চল থাকলেও, সম্প্রতি যে ঘটনাটি আমরা দেখলাম, এরকম অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত বিরল। যে উদ্দেশ্যে খাস কামরার বিষয়টি এসেছে, এখন যেন সেই মূল উদ্দেশ্য পাশ কাটিয়ে সেটার অপব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলছেন, ঔপনিবেশিক আমলের যেসব দেশের সংস্কৃতি থেকে এই খাস কামরার প্রথা এসেছে, সেই দেশে কিন্তু এখন এটা আর নেই। ফলে এখন আমাদেরও বিবেচনা করা উচিত যে , বর্তমান সময়ে আসলে এর আর কোন প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা? বিশেষ করে সাম্প্রতিক ডিসির ঘটনার প্রেক্ষিতে সেটা আরো জোরালোভাবে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত।

বিস্তারিত পড়ুন✓

https://bdpolicenews24.blogspot.com/2019/08/blog-post_27.html

Sunday, August 25, 2019

নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় ওএসডি হচ্ছেন জামালপুরের ডিসি

#নারী_কেলেঙ্কারির_ঘটনায়_ওএসডি_হচ্ছেন_জামালপুরের_ডিসি

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শনিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জামালপুরের ডিসিকে ওএসডি করছি। এর প্রক্রিয়া চলছে। আগামীকাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”

৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে তার কার্যালয়ের এক নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়।

শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন। বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। আপনারা আমাকে একটু সময় দেবেন। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’

ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘এটি একটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিল। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়।’

তবে ভিডিওটিতে দেখানো কক্ষটি তার অফিসের বিশ্রাম নেয়ার কক্ষ এবং ভিডিওর ওই নারী তার কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত বলে জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে বলে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।

তিনি শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জামালপুরের জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তদন্ত করা হচ্ছ। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভিসি চাইলে বুয়েট বিক্রি করে দিতে পারে

বুয়েট বিক্রি করে দেয়ার এখতিয়ার আছে-এমন দম্ভোক্তি করে শেষমেষ তীব্র আন্দোলনের মুখে ভিসি  পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

হাসপাতাল থেকে কিভাবে শিশু চুরি হয়?

নবজাতক শিশু চোর চক্রের সদস্যদের মুখ থেকেই বাচ্চা চুরির গল্প শুনুন